দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসায় সাবেক ছাত্রের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী ও তিন পীর সাহেবের রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কুরআন অনুষ্ঠিত
আজ দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসায় মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র ইয়াহিব রিহান-এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং মরহুম ঝিলবুনিয়া, ছারছীনা ও জৈনপুরী পীর সাহেবত্রয়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কুরআন, খতমে খাজেগান ও খতমে তাহলীল অনুষ্ঠিত হয়েছে।সকাল থেকেই মাদ্রাসায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক খতমে কুরআন, ইয়াসিন শরিফ খতম এবং খতমে তাহলীল আদায় করা হয়।
উল্লেখ্য, মরহুম পীর সাহেবত্রয়ের সঙ্গে দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসার ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও তার পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মোহাম্মদ ফয়জুল আলম সাহেব বলেন, “ছারছীনার মরহুম পীর সাহেব হুজুর ছিলেন আমার অভিভাবক। তাঁর দোয়া ও এজাজতেই আমি এই প্রতিষ্ঠান শুরু করি। মরহুম হুজুর তাঁর জীবনের শেষ ভোলা সফরে মাদ্রাসার বর্তমান একাডেমিক ভবনের নির্মাণকালে স্বশরীরে এখানে উপস্থিত হয়ে দোয়া করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি দারুসসুন্নাত খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন এবং নিজ হাতে নামফলক স্থাপন করেন।”
তিনি আরও বলেন,“জৈনপুরের মরহুম বড় হযরত অত্র মাদ্রাসার জন্য অন্তর থেকে দোয়া করতেন। যখনই সাক্ষাৎ হতো, মাদ্রাসার খোঁজখবর নিতেন। একবার নিজ ইচ্ছায় হঠাৎ মাদ্রাসার বর্তমান ভবনে উপস্থিত হয়ে দোয়া করেন।”
প্রতিষ্ঠাতা আরও উল্লেখ করেন,“এই দুইজনের ইন্তেকালের পর আমার একমাত্র অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও দোয়াকারী ছিলেন ঝিলবুনিয়ার মরহুম পীর সাহেব হুজুর। কিন্তু তিনিও গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর ওমরাহ সফরে ইন্তেকাল করেন। তিনি বর্তমান মাদ্রাসা ভবনে দুই দিন অবস্থান করেন এবং শারীরিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও নিজে হেঁটে হেঁটে পুরো ভবন পরিদর্শন করেন।”
তিনি জানান,“মরহুম হুজুর বর্তমান নির্মাণাধীন ভবনের স্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া করেছিলেন। আজ সেই স্থানেই বৈদেশিক সহায়তায় বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি তিনতলা বিশিষ্ট সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণাধীন রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আজ এই প্রতিষ্ঠানের যতটুকু সফলতা, তার পেছনে তাঁদের দোয়া অন্যতম কারণ। তাই তাঁদের জন্য দোয়ার আয়োজন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।”
তিনি আরও বলেন, "আমরা আজ পারিবারিকভাবে অভিভাবকশূন্য হয়ে গেছি। হুজুররা আমার ও আমার পরিবারের অভিভাবকের মতো ছিলেন এবং সবসময় অত্র প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিতেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুন।”
মরহুম ছাত্র ইয়াহিব রিহান সম্পর্কে তিনি বলেন, “ইয়াহিব একজন বিচক্ষণ ও মেধাবী ছাত্র ছিল। গত বছর এই দিনে সে একটি অটোরিকশা দুর্ঘটনায় শাহাদাতবরণ করে। আল্লাহ তায়ালা তার কবরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাগিচা হিসেবে কবুল করুন, তার পরিবারকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দিন এবং তাকে তার পরিবার ও শিক্ষকদের নাজাতের উসিলা বানান।”
যোহরের নামাজের পর খতমে খাজেগান, মিলাদ কিয়াম এবং সম্মিলিত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসার স্বপ্নদ্রষ্টা ও সভাপতি জনাব আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ ফয়জুল আলম সাহেব।
এ সময় স্থানীয় ইমাম সাহেবগণ, আলেম-উলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্রবৃন্দ, আবাসিকের সকল ছাত্র এবং শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

