বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াত ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে যে ক’জন আলেম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ ফয়জুল আলম হুজুর অন্যতম। তিনি একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, খতিব, সংগঠক ও আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় দ্বীনের খেদমত, ইলমের প্রসার এবং মানুষের কল্যাণে নিবেদিত।
★ ব্যক্তিগত পরিচিতি - তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ভোলা জেলার দেউলা ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আমীর হোসেন ছিলেন একজন পরহেজগার আলেম। শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং ইলমে দ্বীনের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি ১০ ভাই-বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই দায়িত্বশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেন।
★ শিক্ষাজীবন - তিনি ধাপে ধাপে প্রথাগত ও উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে প্রথমে মজমের হাট ফাযিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম উত্তীর্ণ হন। তারপর ছারছীনা মাদ্রাসা থেকে ফাযিল ও কামিল সম্পন্ন করেন, যেখানে তিনি তাফসির, হাদিস ও ফিকহে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। সর্বশেষ ভোলা সরকারি কলেজ থেকে ডিগ্রি (স্নাতক) সম্পন্ন করেন এবং বরিশালের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইলমের এই সমন্বিত সাধনা তাঁকে একাধারে দ্বীনি ও আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেছে।
★ কর্মজীবন ও ইসলামী খেদমত -
তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও দাওয়াতি খেদমতে নিয়োজিত— বর্তমানে মজমের হাট ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুর্বে হাবিবুল্লাহ আবাদ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে প্রায় ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভোলার বোরহানউদ্দিন কামিল মাদ্রাসায় প্রায় ১৮ বছর হেড মুহাদ্দিস হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০১৪ সালে “দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে একটি সুপরিচিত ও আদর্শ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আধুনিকতার সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
★ প্রতিষ্ঠান গঠন ও নেতৃত্ব -
তিনি শুধু শিক্ষকই নন, একজন দক্ষ সংগঠকও—
দারুসসুন্নাত মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
দেউলা রহমানিয়া মাদ্রাসার সভাপতি।
বোরহানউদ্দিন মক্কী মসজিদের খতিব ও সভাপতি।
বাংলাদেশ জমিয়তে হিযবুল্লাহ’র মজলিসে আমেলার সদস্য ও ভোলা জেলা সভাপতি।
বাকলাই বাড়ী খানকাহ’র সভাপতি।
তার নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্বীনি শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
★আধ্যাত্মিক জীবন ও তাসাউফ - তিনি আধ্যাত্মিক জগতেও সুপ্রতিষ্ঠিত— জৈনপুরের মরহুম পীর হাসনাইন আহমেদ (রহ.)-এর খলিফা ও হাবিবুল্লাহ আবাদ দরবার শরীফের পীর শাহ আব্দুর রহমান (রহ.)-এর প্রিয়ভাজন এবং ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)-এর আস্থাভাজন ও দীর্ঘদিনের সফরসঙ্গী
তাসাউফের এই সান্নিধ্য তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও পরিশীলিত ও প্রভাবশালী করেছে।
★হজ্ব কাফেলা ও দাওয়াতি কার্যক্রম -
তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে “দারুসসুন্নাত হজ্ব কাফেলা”-এর মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি মুসল্লিকে হজ্ব ও উমরাহ পালনে সহায়তা করেছেন।
তার মাধ্যমে ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন।
★শিক্ষার্থী ও অবদান -
তার শিক্ষার্থীরা— দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, এতে তাঁর শিক্ষাদান ও দিকনির্দেশনার গভীর প্রভাব প্রতিফলিত হয়।
★ পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন-
তিনি তিন সন্তানের জনক—
১. মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ: মাদ্রাসা শিক্ষক ও আরবি প্রভাষক
২. মোহাম্মদ নাছরুল্লাহ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত
৩. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত
তিনি তাঁর নাতি মোহাম্মদ আবরার সাদকে অত্যন্ত স্নেহ করেন।
★ব্যক্তিত্ব ও বৈশিষ্ট্য - জ্ঞানী, বিনয়ী ও সদালাপী, দ্বীনের প্রতি দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা, সমাজসেবায় অগ্রণী ভূমিকা, নেতৃত্বদানে দক্ষতা ও দূরদর্শিতা।
★সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা - তিনি ভোলা জেলার একজন সুপরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকেও তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর ইলম, আমল ও আখলাক তাঁকে একজন আদর্শ আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

